কার্বন কর জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ ব্যয়কে দামে অন্তর্ভুক্ত করার একটি নীতি। এটি নির্গমন কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে বাস্তুতন্ত্রের ফল নির্ভর করে করের হার, আয়ের ব্যবহার, শিল্পখাত ও বাস্তবায়নের ওপর। ব্যবসা ও ভোক্তার জন্য খরচ, ঝুঁকি এবং সিদ্ধান্তের মূল মানদণ্ড জানুন।
কার্বন কর জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ-সম্পর্কিত ব্যয়কে দামের সঙ্গে যুক্ত করার একটি নীতিগত পদ্ধতি; এতে কম-নির্গমন বিকল্প তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে এটি একাই বন, জলাভূমি বা জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করে না—রাজস্বের ব্যবহার, ভূমি সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার ক্ষেত্রে জ্বালানি বিল, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ শৃঙ্খলের খরচে প্রভাব পড়তে পারে। ভোক্তার জন্য শুধু পণ্যের দাম নয়, বিকল্পের জ্বালানি ব্যবহার ও স্থায়িত্বও দেখা দরকার। কার্বন হিসাব সফটওয়্যার, নির্গমন পরামর্শসেবা বা শক্তি-সাশ্রয়ী সরঞ্জাম বাছাইয়ের আগে নিজের ব্যয়ের উৎস বোঝাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত শুরু।
এক নজরে
- কার্বন করের লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির নির্গমন-সম্পর্কিত ব্যয়কে দামে অন্তর্ভুক্ত করা।
- জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও পণ্যমূল্যের মাধ্যমে এর কিছু ব্যয় ব্যবসা ও ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে।
- বাস্তুতন্ত্রে ফল নির্ভর করে নির্গমন কমার পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবহার, বন সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বাস্তবায়নের ওপর।
| বিকল্প বা পদক্ষেপ | কোথায় কাজে লাগে | খরচের ধরন | কখন বেশি উপযোগী |
|---|---|---|---|
| জ্বালানি দক্ষতা | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমানো | সরঞ্জাম বা পরিচালনাগত পরিবর্তনের খরচ | বিলের বড় অংশ জ্বালানি ব্যবহার থেকে এলে |
| নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ | বিদ্যুতের উৎসে কম-নির্গমন বিকল্প দেখা | সরবরাহ চুক্তি বা অবকাঠামো-সম্পর্কিত ব্যয় | বিদ্যুৎ ব্যবহার ও উৎসের তথ্য জানা থাকলে |
| কার্বন হিসাব সফটওয়্যার | নির্গমন, জ্বালানি বিল ও সরবরাহকারীর তথ্য একত্র করা | সফটওয়্যার, তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ব্যয় | একাধিক বিল, যানবাহন বা সরবরাহকারী থাকলে |
| নির্গমন পরামর্শসেবা | জটিল হিসাব, ঝুঁকি ও পরিকল্পনা মূল্যায়ন | পেশাগত সেবার ব্যয় | নির্গমন-নিবিড় কার্যক্রম বা জটিল সরবরাহ শৃঙ্খল থাকলে |
সংক্ষেপে: করের সংকেত কীভাবে প্রকৃতি ও ব্যয়ের সিদ্ধান্ত বদলায়
দূষণের খরচ দামে অন্তর্ভুক্ত করার মৌলিক ধারণা
কার্বন কর সাধারণত কয়লা, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনকে কেন্দ্র করে ব্যয় নির্ধারণের নীতিগত পদ্ধতি। এর মূল সংকেতটি সহজ: বেশি নির্গমন-নির্ভর জ্বালানি ব্যবহার করলে তার আর্থিক ব্যয়ও বিবেচনায় আসবে। ফলে জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ বা কম জ্বালানি-নির্ভর পরিবহন তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।
তবে বাস্তবে কোন বিকল্প সাশ্রয়ী হবে, তা কেবল করের ওপর নির্ভর করে না। প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ উৎস, যন্ত্রপাতির দক্ষতা, পরিবহনের দূরত্ব, সরবরাহকারীর অবস্থান এবং স্থানীয় নীতির নিয়ম—সবকিছু মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
বাস্তুতন্ত্রের জন্য সম্ভাব্য লাভ কেন সরাসরি নয়
জলবায়ু পরিবর্তনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির ঝুঁকি বন, জলাভূমি, সামুদ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করতে পারে। নির্গমন কমানোর প্রণোদনা এসব ঝুঁকি কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। কিন্তু কর চালু হলেই নির্দিষ্ট বনাঞ্চল বা কোনো প্রজাতি সুরক্ষিত হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বন সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর নজরদারিও দরকার। তাই পরিবেশগত ফল মূল্যায়নে শুধু কার্বন কর আছে কি না, তা নয়; কোন ঝুঁকি কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সেটিও দেখা জরুরি।
ভোক্তা ও ব্যবসার জন্য তাৎক্ষণিক প্রভাব
কার্বন-সম্পর্কিত ব্যয় জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন এবং পণ্যমূল্যের মাধ্যমে আংশিকভাবে ভোক্তা ও ব্যবসার কাছে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পণ্য কত দামী হবে, তা আগাম নির্ধারণ করা যায় না। জ্বালানি উৎস, সরবরাহ শৃঙ্খল, করনীতি ও বাজার পরিস্থিতি ভিন্ন হলে ফলও ভিন্ন হবে।
ভোক্তার জন্য ব্যবহারিক প্রশ্ন হলো: একই কাজের জন্য কম জ্বালানি লাগে এমন পণ্য বা সেবা কি আছে? ব্যবসার জন্য প্রশ্ন হলো: কোন ব্যয়টি আগে নিয়ন্ত্রণ করলে বিল ও নির্গমন—দুটিই দেখা যাবে? এই দুই প্রশ্নই খরচের সিদ্ধান্তকে অনুমানের বদলে তথ্যনির্ভর করে।
পরিবেশগত ফল বিচার করার তুলনা কাঠামো
নির্গমন কমা, বন–জলাভূমি সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্যের সম্পর্ক
নির্গমন কমানো জলবায়ু-সম্পর্কিত চাপ হ্রাসের একটি পথ হতে পারে। কিন্তু বন উজাড়, আবাসস্থল ক্ষতি বা স্থানীয় দূষণের মতো বিষয় আলাদা পদক্ষেপও দাবি করে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যবসা জ্বালানি ব্যবহার কমালেও তার সরবরাহ শৃঙ্খল ভূমি ব্যবহার বা জলসম্পদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, সেটি আলাদাভাবে যাচাই করা দরকার।
সুতরাং পরিবেশগত দাবি দেখলে তিনটি স্তর আলাদা করুন: নির্গমন, স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র এবং বাস্তবায়নের প্রমাণ। এই পার্থক্যটি গ্রিনওয়াশিং এড়াতে সাহায্য করে।
করের রাজস্ব কোথায় ব্যয় হলে প্রভাব বাড়তে পারে
কার্বন কর থেকে সরকারি রাজস্ব সংগ্রহ হতে পারে। সেই অর্থ নাগরিক সহায়তা, জ্বালানি দক্ষতা, গণপরিবহন বা পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হতে পারে। কোন খাতে কতটা এবং কীভাবে অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে, তা দেশ বা অঞ্চলভেদে এক নয়।
নীতি মূল্যায়নের সময় দেখুন, রাজস্ব ব্যবহারের তথ্য কি স্পষ্ট? জ্বালানি-ব্যয়ের চাপে থাকা মানুষ বা ছোট ব্যবসার জন্য কোনো সহায়তার কাঠামো আছে কি? পরিবেশ পুনরুদ্ধার বা গণপরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে বাস্তব ফল পর্যালোচনার ব্যবস্থা আছে কি? রাজস্বের স্বচ্ছতা থাকলে নীতির কার্যকারিতা বোঝা সহজ হয়।
শুধু জ্বালানির দাম দেখলে যে ভুল হয়
শুধু বিল বেড়েছে কি না দেখে কার্বন করের সামগ্রিক প্রভাব বিচার করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অপচয় কমানো, রুট পরিকল্পনা উন্নত করা বা দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে পারে। আবার কম দামের বিকল্পটি বেশি জ্বালানি খরচ করতে পারে, দ্রুত নষ্ট হতে পারে বা সরবরাহ শৃঙ্খলে বেশি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সঠিক তুলনায় মোট ব্যবহারের পরিমাণ, পরিবহনের প্রয়োজন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরবরাহকারীর তথ্যের মান পাশাপাশি দেখতে হয়।
ব্যবসার ব্যয়, কার্বন হিসাব ও বিনিয়োগের মূল্যায়ন
কোন খাতে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেশি সংবেদনশীল
যেসব ব্যবসায় জ্বালানি, পরিবহন বা উৎপাদন ব্যয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে বড়, সেখানে কার্বন-সম্পর্কিত ব্যয়ের গুরুত্বও বেশি হতে পারে। পণ্য আনা-নেওয়া, নিজস্ব যানবাহন, বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি এবং জ্বালানি-নির্ভর উৎপাদন ধাপ আলাদা করে তালিকাভুক্ত করুন।
প্রথমে বড় ব্যয়ের উৎস শনাক্ত করুন। এরপর দেখুন, সেটি ব্যবহার কমিয়ে, দক্ষতা বাড়িয়ে, রুট বদলে বা সরবরাহকারী মূল্যায়নের মাধ্যমে সামলানো সম্ভব কি না। সবকিছু একসঙ্গে বদলানোর চেয়ে সবচেয়ে দৃশ্যমান ব্যয়ের উৎস থেকে শুরু করা সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত।
কার্বন হিসাব সফটওয়্যার, অডিট ও পরামর্শসেবা কখন বিবেচ্য
ছোট ও সহজ কার্যক্রমে বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি ক্রয় এবং পরিবহন নথি দিয়ে নিজস্ব হিসাব শুরু করা যেতে পারে। কিন্তু একাধিক স্থাপনা, যানবাহন, পণ্যশ্রেণি বা সরবরাহকারী থাকলে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তখন কার্বন হিসাব সফটওয়্যার তথ্য একত্র করা, তুলনা করা এবং পরিবর্তনের অগ্রগতি দেখার কাজে সহায়ক হতে পারে।
নির্গমন-নিবিড় কার্যক্রম, জটিল ক্রয়নীতি বা আনুষ্ঠানিক রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজন থাকলে অডিট বা নির্গমন পরামর্শসেবা বিবেচ্য হতে পারে। তবে কোনো সেবা নেওয়ার আগে জেনে নিন: এটি কোন তথ্য সংগ্রহ করবে, কোন পর্যায়ের নির্গমন দেখবে, আপনার দলকে কত সময় দিতে হবে এবং প্রতিবেদনটি কী সিদ্ধান্তে কাজে লাগবে।
দক্ষ যন্ত্রপাতি বা পরিচ্ছন্ন বিদ্যুতের খরচ–সাশ্রয় তুলনা
দক্ষ যন্ত্রপাতি বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বেছে নেওয়ার সময় শুধু কেনার খরচ দেখবেন না। বর্তমান বিলের কোন অংশটি ওই সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে, ব্যবহারের ধরন কেমন এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন কী—এসব মিলিয়ে দেখুন। বাস্তব সাশ্রয় বা পরিবেশগত ফল নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়, কারণ স্থানভেদে জ্বালানি উৎস ও পরিচালনার ধরন আলাদা।
তুলনার জন্য একটি সহজ তালিকা রাখুন: বর্তমান ব্যবহার, সম্ভাব্য বিকল্প, তথ্যের উৎস, বাস্তবায়নের বাধা এবং পরিবর্তনের পরে পর্যালোচনার সময়। এই তালিকা সরঞ্জাম বিক্রেতা, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বা পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনাও পরিষ্কার করে।
বাস্তবায়নে সতর্কতা ও সাধারণ ভুল

করের হার ও নিয়ম না জেনে মূল্য অনুমান করা
কার্বন করের হার, ছাড়, আওতা ও রাজস্ব ব্যবহারের নিয়ম নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলে এক নয়। তাই কোনো খবর, প্রচারপত্র বা সরবরাহকারীর বক্তব্য দেখে নিজের পণ্যের দাম কত বাড়বে—এমন চূড়ান্ত হিসাব করা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রযোজ্য নীতির সরকারি তথ্য এবং নিজের ব্যয়ের নথি মিলিয়ে দেখুন।
গ্রিনওয়াশিং এড়াতে নির্গমন তথ্য যাচাই
“পরিবেশবান্ধব” বা “কম কার্বন” দাবি দেখলেই সেটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ ধরে নেবেন না। দাবি কোন কার্যক্রমকে বোঝাচ্ছে, তথ্যের সময়কাল কী, জ্বালানি ব্যবহার কমেছে নাকি শুধু ভাষা বদলেছে—এসব প্রশ্ন করুন। নির্গমন তথ্যের উৎস, হিসাবের সীমা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের তথ্য পরিষ্কার না হলে সতর্ক থাকা ভালো।
ছোট সরবরাহকারী ও নিম্নআয়ের গ্রাহকের প্রভাব বিবেচনা
খরচ বদলালে ছোট সরবরাহকারী ও সীমিত বাজেটের গ্রাহক বেশি চাপে পড়তে পারেন। বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নতুন পরিবেশগত শর্ত দিলে ছোট সরবরাহকারীর তথ্য সংগ্রহ বা যন্ত্রপাতি বদলের সক্ষমতা ভিন্ন হতে পারে। তাই ক্রয়নীতিতে সময়, তথ্য সহায়তা এবং বাস্তবায়নের সুযোগ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতিভেদে করণীয়
পরিবার ও ব্যক্তিগত ভোক্তার জ্বালানি-ব্যয় পর্যালোচনা
পরিবারের জন্য প্রথম কাজ হলো বিদ্যুৎ, রান্না, যাতায়াত ও নিয়মিত কেনাকাটায় কোন খাতে জ্বালানি ব্যবহার বেশি হচ্ছে তা দেখা। পণ্যের দামের পরিবর্তন নিয়ে অনুমান করার বদলে ব্যবহার কমানো যায় কি না, দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প আছে কি না এবং যাতায়াতের ধরন বদলানো সম্ভব কি না—এসব তুলনা করুন।
ক্ষুদ্র ব্যবসার বিল, পরিবহন ও সরবরাহকারী বিশ্লেষণ
ক্ষুদ্র ব্যবসা মাসিক বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি ক্রয়, ডেলিভারি খরচ এবং প্রধান সরবরাহকারীর তথ্য এক জায়গায় আনতে পারে। এই নথি থেকেই বোঝা যায় কোথায় অপচয় বেশি এবং কার সঙ্গে কথা বলা দরকার। সফটওয়্যার নেওয়ার আগে দেখুন, আপনার তথ্যের পরিমাণ কি সত্যিই হাতে সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে।
বড় প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টিং, ক্রয়নীতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা
বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগ, স্থাপনা ও সরবরাহকারীর তথ্য মিলানো কঠিন হতে পারে। তাই রিপোর্টিং কাঠামো, ক্রয়নীতির মানদণ্ড এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সংযোগ দরকার। কার্বন হিসাব সফটওয়্যার বা বিশেষজ্ঞ সহায়তা তখন শুধু রিপোর্ট তৈরির জন্য নয়, কোন সিদ্ধান্তে কোথায় প্রভাব পড়বে তা বোঝার জন্যও বিবেচনা করা যায়।
নির্বাচনের মানদণ্ড ও তুলনা সারাংশ
১. প্রতিষ্ঠানের নির্গমন ও জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য কি এক জায়গায় আছে? ২. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহনের মধ্যে কোনটি বিলের বড় অংশ? ৩. সরবরাহ শৃঙ্খলে তথ্যের ঘাটতি কোথায়? ৪. দক্ষতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ এবং পরিচালনাগত পরিবর্তনের মধ্যে কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য? ৫. নীতির রাজস্ব কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং কোন বাস্তুতান্ত্রিক ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্য আছে? ৬. নিজস্ব হিসাব যথেষ্ট, নাকি সফটওয়্যার বা বিশেষজ্ঞ সহায়তা দরকার?
প্রতিষ্ঠানের নির্গমন, বিলের অংশ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের তথ্য মিলিয়ে বিকল্প তুলনা করুন। কার্বন হিসাব সফটওয়্যার, জ্বালানি দক্ষতা সরঞ্জাম বা পরামর্শসেবার বিস্তারিত শর্ত সংশ্লিষ্ট সেবার তথ্যপাতায় যাচাই করুন।
শেষ কথা
কার্বন করকে শুধু অতিরিক্ত খরচ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। এটি জ্বালানি ব্যবহার, পরিবহন, উৎপাদন ও ক্রয় সিদ্ধান্ত নতুনভাবে পর্যালোচনার একটি সংকেত হতে পারে। বাস্তুতন্ত্রের উপকার নির্ভর করে নির্গমন কমার পাশাপাশি বন, জলাভূমি ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপের ওপর। তাই ভালো সিদ্ধান্ত হলো তথ্য যাচাই করে খরচ, সক্ষমতা ও পরিবেশগত লক্ষ্য—তিনটিকে একসঙ্গে দেখা।
জেনে রাখলে কাজে লাগবে
১. কার্বন করের নিয়ম সব দেশ বা অঞ্চলে এক নয়।
২. কোনো পণ্যের দাম কত বদলাবে, তা জ্বালানি উৎস ও সরবরাহ শৃঙ্খল ছাড়া বলা যায় না।
৩. রাজস্ব নাগরিক সহায়তা, জ্বালানি দক্ষতা, গণপরিবহন বা পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হতে পারে।
৪. কার্বন হিসাবের জন্য প্রথমে বিল, জ্বালানি ক্রয় ও পরিবহন নথি গুছিয়ে নেওয়া উপকারী।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সারাংশ
কার্বন কর এককভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষা বা নির্দিষ্ট খরচ বৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না। করের হার, ছাড়, আওতা, রাজস্ব ব্যবহার এবং বাস্তবায়নের নিয়ম অবশ্যই প্রযোজ্য এলাকার নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে যাচাই করতে হবে। ব্যবসার জন্য সফটওয়্যার বা পরামর্শসেবার প্রয়োজনীয়তাও প্রতিষ্ঠানের আকার, তথ্যের জটিলতা ও রিপোর্টিং চাহিদাভেদে আলাদা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Q1. কার্বন কর কি সরাসরি বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে?
A1. না, সরাসরি সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। এটি নির্গমন কমানোর প্রণোদনা দিতে পারে, যা জলবায়ু-সম্পর্কিত চাপ কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। বন সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়নও জরুরি।
Q2. ছোট ব্যবসার জন্য কার্বন হিসাব সফটওয়্যার নেওয়া কি ব্যয়সাশ্রয়ী হতে পারে?
A2. হতে পারে, তবে তা প্রতিষ্ঠানের তথ্যের জটিলতার ওপর নির্ভর করে। অল্প কিছু বিল ও সীমিত কার্যক্রম হলে নিজস্ব নথি যথেষ্ট হতে পারে। একাধিক স্থান, যানবাহন বা সরবরাহকারী থাকলে সফটওয়্যার তথ্য গুছিয়ে তুলনা করতে সহায়ক হতে পারে।
Q3. কার্বন করের কারণে পণ্যের দাম বাড়লে ভোক্তা কীভাবে বিকল্প তুলনা করবেন?
A3. শুধু প্রাথমিক দাম নয়, পণ্যের জ্বালানি ব্যবহার, স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ, যাতায়াতের প্রয়োজন এবং ব্যবহারকাল বিবেচনা করুন। নির্দিষ্ট দামের পরিবর্তন জ্বালানি উৎস, সরবরাহ শৃঙ্খল, করনীতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বলে যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত অনুমান করা ঠিক নয়।





